স্বামী-মেয়ে নেই, আত্মীয়স্বজনরা খোঁজ নেয় না, রিক্সাচালককে কোটি টাকার সম্পত্তি দান বৃদ্ধার

 মেয়ে মারা গিয়েছে। আত্মীয়স্বজনরা (relavives) যোগাযোগ রাখে না। নিঃসঙ্গ জীবনে (alone) সহায় ২৫ বছর ধরে পরিবারের নানা বিপদে আপদে পাশে থাকা রিক্সাচালক (rickshaw puller) ৫৩ বছরের বুধা সামাল ও তার পরিবার। শেষ জীবনেও একমাত্র ভরসা সে-ই। তাই বুধার নামে নিজের তিনতলা পাকা বাড়ি (house), যাবতীয় সামগ্রী, ১ কোটি টাকার ওপর সোনাদানা (ornaments)- স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি (property) উইল করে লিখে দিলেন কটকের সুতাহাট ক্রিশ্চিয়ানশাহি এলাকার বৃদ্ধা (old lady) মিনতি পট্টনায়েক।


কটকের (cuttack) অলিগলিতে রিক্সা টেনে সংসার (family) চালান বুধা। ৬৩ বছরের মিনতি দেবীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। মিনতি দেবী বলছেন, গত বছর অল্প সময়ের ব্য়বধানে স্বামী, মেয়েকে হারিয়েছি। এখন আমি একা। সবসময় ভাবতাম, কোনও গরিব পরিবারকে সব কিছু দান করে দেব। তাই বস্তিবাসী বুধা, ওর পরিবারকে আমার যা কিছু, সব দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত ২৫ বছর ধরে বুধা আমার, আমার পরিবারের জন্য এত কিছু করেছে যে ওর প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। ওর নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হোক। গত বছর ৭০ বছর বয়সি ব্যবসায়ী স্বামী কৃষ্ণ কুমার মারা যান। টিউমার থেকে ক্যান্সার হয়েছিল। ৬ মাস পর ৩১ বছরের মেয়ে কোমল কুমারী প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে জখম হয়। তারপরই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে সে-ও মারা যায়। পরপর দুই মৃত্যুর আঘাত সহ্য করতে না পেরে বাঁচার ইচ্ছেই হারিয়ে ফেলেন মিনতি। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেন। তখন থেকে বুধাই তাঁর দেখাশোনা করেন। ডাক্তার দেখানো, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সংসার সামলানো-সবই করেন বুধা, তাঁর পরিবারের লোকজন। বুধাই তাঁর ভরসা, জানিয়েছেন মিনতি দেবী। বলেছেন, মেয়ে যখন স্কুলে পড়ত, বুধাই ওকে স্কুলে দিয়ে, নিয়ে আসত। স্বামীও ওকে বিশ্বাস করতেন। মেয়ে চলে যাওয়ার পর স্বামীর পরিবারের দিকের আত্মীয়স্বজনদের কেউই যোগাযোগ রাখে না। কেমন আছি, ফোন করেও খবর নেয় না। কিন্তু বুধা সবসময় আমার পাশে রয়েছে। আমায় সম্মান করে। রিক্সাচালককেই তাই নিজের উত্তরাধিকার সঁপে দিলেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ