সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল, জলপাইগুড়ির স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে পরীক্ষা, শুরু বিতর্ক

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: ২০ মাস পর স্কুল খুললেও এখনও সব পড়ুয়া ক্লাসে প্রবেশাধিকার পায়নি। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাই ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু কোথায় নিয়ম? এতদিন ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনার পর এবার স্কুলমুখী হতে চায় সবাই। ফলে করোনা (Coronavirus) বিধি শিকেয় তুলে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বসল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বাহাদুর অঞ্চলের নওয়াপাড়া নয়াবস্তি ঠুটাপাকড়ি সরকারি বিদ্যালয়ে। আর তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

School

মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল, ক্লাস করানোই শুধু নয়, নয়াবস্তির  পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষাও নিচ্ছেন শিক্ষিকারা। সেখানে সামাজিক দূরত্বের (physical distance)বালাই নেই। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে একে অপরের গা ঘেঁষে বসেছে পড়ুয়ারা। মাস্ক নেই ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষিকা – কারও মুখেই। সাংবাদিকরা সেই ছবি তুলতে গেলে রে রে করে উঠলেন শিক্ষিকা! জানা গেল, তিনিই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। স্কুলে সেসময় ছিলেন না প্রধান শিক্ষক। তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নিতেই মেজাজ সামলে ‘ম্যাডাম’ জানালেন, প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশেই পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের তো এখনও ক্লাস চালু করেনি রাজ্য সরকার। তাতে অবশ্য নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিলেন স্কুলের ম্যাডাম। পালটা জানালেন, বাড়িতে বসে ঠিকমতো পড়া বুঝতে পারছিল না ছাত্রছাত্রীরা। তাই অভিভাবকরা অনুরোধ করেন, যাতে শিক্ষিকারা একটু বুঝিয়ে দেন। তা শুনেই ক্লাসে ডেকে পড়াচ্ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এরই পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের চরকডানগি এলাকায় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ের পোশাক না পরে বাড়ির পোশাক পরেই বিদ্যালয়ে এসে টিউশন নিচ্ছে। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি এসআই অফ স্কুলস। সদর ওয়েস্ট সার্কেলের আধিকারিক, নাতাশা পারভীন জানান, তিনি এই সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তবে তা জানার পর তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজের নোটিস দিয়েছেন বলে  খবর। 

এদিকে, কালনার পূর্বস্থলির নীলমণি ব্রহ্মচারী ইনস্টিটিউশনের দুই শিক্ষকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তারপরেই বিষয়টি ব্লক ও মহকুমা প্রশাসনকে জানিয়ে নির্দেশমতো স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মদন গোপাল ঘোষ। তিনি জানান, “করোনা পরীক্ষা করার পরেই আমার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সোমনাথ সেনগুপ্ত নামে এক শিক্ষকের রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শিক্ষকের জ্বরও রয়েছে শরীরে।” যদিও করোনায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ছাত্র ও অন্যান্যদের নামের তালিকাও মহকুমা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ