করোনা পরিস্থিতিতে ২০২১ সে দুর্গাপুজো ! চরম আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা

 #কলকাতা: উত্‍সবের মরসুমে ফের দেখা দিয়েছে করোনার প্রবল তাণ্ডবের আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও। কিন্তু পুজোর আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটুকু করোনা-বিধি মেনে চলার সদিচ্ছা রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।



অবশ্য পঞ্চমীতে রাজ্যে সামান্য কমেছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সংখ্যা। চতুর্থীর তুলনায় রাজ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছুটা কমায় স্বস্তিতে প্রশাসন। তবে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা নিয়ে চিন্তা অব্যাহত থাকছেই।


রবিবারের স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬০ জন। এই সময়ের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। যদিও নতুন করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৩৪ জন।


পুজোর ভিড় থেকে সংক্রমণের তথ্য এখনও হাতে আসতে বেশ কিছুটা সময় বাকি, কিন্তু পুজোর আগে থেকেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে শপিংয়ের হুজুগই বাংলায় করোনার গ্রাফকে আবার ঠেলে তুলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর পুজোর পরও তেমনই ঘটেছিল। তবু গতবার থেকে শিক্ষা নেয়নি আমজনতা। সেপ্টেম্বরের শুরুর সঙ্গে অক্টোবরের শুরুর তুলনা টানলে দেখা যাচ্ছে, সারা বাংলার পজিটিভিটি রেট ১.৭৮ থেকে বেড়ে ১.৭৯ শতাংশ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা মিলেছে, ৩ শতাংশের বেশি পজিটিভিটি রেট, এমন জেলার সংখ্যা এক থেকে বেড়ে চার হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুজোর কেনাকাটার ভিড়ই এই বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী। এর সঙ্গে জুড়েছে মহালয়ার পর থেকেই প্যান্ডেল হপিংয়ের নেশা। চতুর্থী, পঞ্চমীতেই দেখা গিয়েছে ভিড় উপচে পড়ছে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। চিকিত্‍সকদের আশঙ্কা, এই ধারা চলতে থাকলে কালীপুজোর আগেই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। অনেকেই এ প্রসঙ্গে কেরলের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। 'ওনাম' উত্‍সবে গা ভাসিয়ে ভয়ানক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কেরল। সেই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেরও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের আরও চিন্তার কারণ, গত বছরের তুলনায় এ বার পুজোয় বিধিনিষেধের কড়াকড়ি অনেকটাই কম।


সেইসঙ্গে তৃতীয়া-চতুর্থীর মতো পঞ্চমীতেও শহরের মণ্ডপগুলোয় ভিড় জমিয়েছেন মাস্কবিহীন দর্শনার্থীরা। মাস্ক পরতে যে অনেকেরই অনীহা, তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন অনেকে। তাই আগামী মাসেই বাংলার কোভিড চিত্র কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ