কৃষ্ণনগরে দুর্ঘটনায় নিহতের তালিকায় এক পরিবারের ৭ জন, শোকে থমথমে বাগদার গ্রাম

0

জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: তালা বন্ধ বাড়ি। তার সামনেই দলে দলে ভিড় করছেন পড়শিরা। কেউ চোখের জল ফেলছেন, কেউ বা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে। শনিবার গভীর রাতে পথ দুর্ঘটনায় বনগাঁর (Bongaon) বাগদা থানার সিন্দ্রানি উত্তরপাড়ার মুহুরি পরিবারের একসঙ্গে ৭ জনের মৃত্যু সংবাদ বাকরুদ্ধ করেছে এলাকার মানুষ। দুর্ঘটনায় (Accident) ৭ জনের পাশাপাশি এলাকার আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে৷ নিহতদের তালিকায় এক শিশুও রয়েছে। সবমিলিয়ে, নিহতের সংখ্যা একে একে ১৭। আকস্মিক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের আবহ গোটা গ্রামে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। 

দুর্ঘটনাগ্রস্ত পরিবারের পাশে স্থানীয় বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস

মৃতদেহ নিয়ে দাহ করতে বেরনোটাই যে শেষ যাত্রা হয়ে যাবে, কেউ ভাবতে পারেনি জ্বলজ্যান্ত এতগুলো প্রাণ চলে যেতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুহুরি পরিবারের বছর নব্বইয়ের বৃদ্ধা শিবানী মুহুরির মৃত্যু হয় শনিবার, গোবরডাঙায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে। রাত ন’টা নাগাদ তাঁর দেহ পারমাদানের উত্তরপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে তাঁর তিন ছেলে, নাতি-নাতনি নিয়ে ভরপুর সংসার। পরিবারের সদস্যরা শিবানী দেবীর দেহ সৎকার করতে এদিন রাত বারোটা নাগাদ নবদ্বীপ যাচ্ছিলেন। একটি ম্যাটাডোর ও একটি ছোট গাড়িতে করে পরিবার পরিজনসহ ৪০ ব্যক্তি শবদেহ সঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন। 

[আরও পড়ুন: বীরভূমের জঙ্গল থেকে উদ্ধার মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ, ধর্ষণ করে খুন, প্রাথমিক অনুমান পুলিশের]

রাতে দাহ করতে যাওয়ার পথে নদিয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরে গাড়িটি। পাথর বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ওই গাড়িতে থাকা নিহতদের আত্মীয় বিধানচন্দ্র দাস বলেন, ” হঠাৎ বিকট শব্দ, ছিটকে পড়ি গাড়ির মধ্যে। বুকের উপর একটি লোহার রড পড়েছিল। সেটি সরিয়ে কোনওমতে উঠে দেখি, গাড়ির মধ্যেই আমার সব আত্মীয়স্বজনরা পড়ে রয়েছে৷  কারও মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, কারও মুখ দিয়ে রক্ত। পিছনে গাড়িতে আসা ভাইদের এরপরে ফোন করে জানাই৷ খবর পেয়ে পুলিশ সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানাচ্ছেন, এখানকার বেশিরভাগ শবদেহ নবদ্বীপের দাহ করতে নিয়ে যেতে হয়। কারণ, নবদ্বীপ তীর্থক্ষেত্র৷ স্থানীয় গৃহবধূ ঝরনা নন্দী বলেন, “নবদ্বীপের গঙ্গা রয়েছে, শেষে একবারে অস্থি বিসর্জন দেওয়া যায়। সে কারণেই এলাকার বেশিরভাগ শবদেহ নবদ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়।” 

[আরও পড়ুন: নদিয়ায় দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে কেন্দ্র, ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা]

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বাগদার সেই গ্রামে পৌঁছে যান বাগদার (Bagda)বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দেন। সন্ধেবেলা মুহুরি বাড়িতে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা এলাকার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি নিহতদের পরিবারগুলিকে ২ লক্ষ টাকা করে অর্থসাহায্য দিয়েছেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Please Type Your Valuable Feedback.
Keep Supporting. Flow as on YouTube & Facebook.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)